আবুল হাশেম
রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের খোর্দ্দ বাউসা গ্রাম একসময় ছিল অতিথি পাখির স্বর্গরাজ্য। শীত এলেই শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠত গ্রাম। আমবাগানের গাছে গাছে বসে থাকা পাখিদের দেখতে ভিড় জমাত পাখিপ্রেমী ও পর্যটকরা। এতে গ্রামীণ পর্যটনেরও প্রাণ ফিরত।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। এবারও পাখি এলেও নেই সরকারি নজরদারি কিংবা কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ। বরং গ্রামজুড়ে চলছে অতিথি পাখি নিধনের হিড়িক। রাতের আঁধারে অসাধু ব্যক্তিরা আমবাগানে ঢুকে ঘুমন্ত পাখি ধরে ফেলছে। ভোর হওয়ার আগেই বস্তায় ভরে এসব পাখি সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব পাখি মাংস হিসেবে খাওয়া হয়, যদিও বাজারে বিক্রির প্রমাণ মেলেনি।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪–৫ বছর আগে হাইকোর্ট খোর্দ্দ বাউসা এলাকার পাখির বাসা রক্ষায় কঠোর নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকি অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে কিনা, সে বিষয়ে রুল জারি করে প্রতিবেদন দিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকদের জন্য বন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণও প্রদান করা হয়।
তবুও এবার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়রা এ বিষয়ে সরাসরি মুখ খুলতে চান না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পথচারী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “আমরাও দেখছি বাইরের লোকজন এসে পাখি ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
প্রকৃতিপ্রেমীদের আশঙ্কা, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে খোর্দ্দ বাউসার অতিথি পাখির ঐতিহ্য চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে।