মশিয়ার রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি
বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। জাতীয় উন্নয়নে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। ঘরের কাজের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু অবদান রাখলেও পুরুষের তুলনায় নারীরা এখনও পারিশ্রমিক বৈষম্যের শিকার — এমন চিত্র উঠে এসেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মাঠঘাটে।
জলঢাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি শ্রমে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। দারিদ্র্যপীড়িত ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর নারীরা অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালান। কিন্তু পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তারা পান না সমান মজুরি।
কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া এলাকার নারী শ্রমিক তাহেরা বলেন,
“আমরা গরীব মানুষ, জমি নেই। তাই অন্যের জমিতে ধান লাগানো, আগাছা পরিষ্কার, কাটা–মাড়াই সব কাজ করি। কিন্তু পুরুষ যেখানে দিনে ৪০০ টাকা পায়, আমরা পাই মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।”
ডাউয়াবারী ইউনিয়নের চরভরট পাড়ার রানী বলেন,
“ধান লাগানো থেকে শুরু করে মাড়াই—সব কাজ করি। কিন্তু মজুরি কম পাই। এটা খুব অন্যায়।”
শৌলমারী ইউনিয়নের বানপাড়ার মায়া বলেন,
“রোদ-বৃষ্টিতে কাজ করি, কিন্তু শরীর সুস্থ থাকে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের কষ্ট সহ্য করে কৃষিতে টিকে আছি। তবু আমাদের মজুরি কম।”
কৈমারী ইউনিয়নের বাধ এলাকার রাহেলা জানান,
“আমাদের পরিশ্রমে হাজার হাজার একর জমিতে ফসল হচ্ছে। তবুও আমাদের অবদান কেউ মূল্যায়ন করে না।”
গাবরোল টগরার ডাঙ্গা এলাকার পুরুষ শ্রমিক সোবহান বলেন,
“এ এলাকার কৃষি উৎপাদনে নারী শ্রমিকরা পুরুষদের সমান অবদান রাখছে।”
স্থানীয় কৃষক কনক বলেন,
“নারীরা সংসার সামলানোর পাশাপাশি কৃষি কাজেও দারুণ সাফল্য দেখাচ্ছেন। নিজেরাও জমিতে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।”
স্থানীয় নারীরা বলেন, তারা এ অঞ্চলের জঙ্গল পরিষ্কার করে ফসলি জমিতে পরিণত করেছেন। সেই জমিতে ধানসহ সব ফসল উৎপাদনে নারীরাই মূল ভূমিকা রাখছেন।
তারা সরকারের প্রতি দাবি জানান —
নারীদের কৃষি শ্রমিক হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং পুরুষের সমান ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হোক।