হাবিবুর রহমান
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
বাংলাদেশ এখন একটা চিকন সুতার উপর দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সিনিয়র সহ-সভাপতি ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের বিএনপি জোটের প্রার্থী তানিয়া রব।
রবিবার (৯ নভেম্বর) রাতে উপজেলার চৌধুরীবাজারে নির্বাচনী এক পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চর মার্টিন ইউনিয়ন জেএসডির উদ্যোগে আয়োজিত এই পথসভায় হাজারো মানুষের ঢল নামে।
তানিয়া রব বলেন,
“ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়েছে এদেশের ছাত্র জনতা। কোনো একটি বিশেষ দল নয়। বাংলাদেশ এখন একটি চিকন সুতার উপর দাঁড়িয়ে আছে। এই সুতাটা যদি ছিঁড়ে যায়, তাহলে দেশ কোথায় যাবে—এটা ভাবতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমাদের অনেক কাজ বাকি আছে। তা বিচ্ছিন্নতা বা প্রতিহিংসা দিয়ে সম্ভব নয়। ঐক্য ও নৈতিকতার ভিত্তিতেই নির্বাচন হতে হবে। তাহলেই আমরা সামনে এগোতে পারবো।”
তানিয়া রব বলেন,
“এখন আমাদের সকলের উচিত ড. মুহাম্মদ ইউনুসের হাতকে শক্ত করা, সরকারের কাজকে এগিয়ে নেওয়া। আমরা যে জুলাই সনদ করেছি, সেটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। পরবর্তী পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ কার্যকর করা হবে।”
তিনি স্থানীয় বিএনপির একটি অংশকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“আপনাদের নেতা আ স ম আবদুর রবের সম্মানে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন খালি রেখেছে বিএনপি। সেখানে জোটের প্রার্থী হিসেবে আমি কাজ শুরু করেছি। তাই বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
রামগতি-কমলনগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আ স ম আবদুর রবের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার দায়িত্ব আমার। আমরা সবাই মিলে রামগতি-কমলনগরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো—চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলবো।”
তিনি আরও বলেন,
“এই অঞ্চলে মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় নেতারা যদি চাঁদা দাবি করে, তাহলে উন্নয়ন হবে না। চাঁদাবাজি বন্ধ করে মানুষের স্বার্থে কাজ করতে হবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন কমলনগর উপজেলা জেএসডির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল মোতালেব এবং সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম বাবুল মুন্সি।
এসময় বক্তব্য রাখেন আ স ম আবদুর রবের পুত্র সালমান বিন রব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফারজানা দিবা, জেলা জেএসডির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বাবুল, ও উপজেলা জেএসডির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ডিলার প্রমুখ।
এর আগে তানিয়া রব চর কালকিনি ইউনিয়নের আটটি স্থানে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করেন এবং নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে “তারা মার্কায় ভোট” দেওয়ার আহ্বান জানান।