আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় স্ত্রীর শরীরে ডিজেল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি মোঃ সুরুজ (৩২)–কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৫।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর ২০২৫) রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকা মহানগরীর মিরপুর-১২ (লালডেগ) এলাকায় র্যাব-৫, সিপিএসসি রাজশাহী এবং র্যাব-৪, সিপিসি-১ যৌথ অভিযানে তাকে আটক করে। সুরুজ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চক নারায়ণপুর গ্রামের মোঃ শহিদুল মাঝির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে সুরুজের সঙ্গে অনন্যা খাতুন মুন্নি (২৫) বিয়ে করেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিভিন্ন অজুহাতে অনন্যাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রথমে তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিতে বলা হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ১ লাখ টাকা প্রদান করা হলেও, সুরুজ আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করার কারণে নির্যাতন বৃদ্ধি পায়।
গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় যৌতুক দাবির জন্য সুরুজ তুমুল ঝগড়া ও মারধর করেন। এরপর ১ নভেম্বর ভোর ৪টায় বাড়ির উঠানে নিয়ে স্ত্রী অনন্যার শরীরে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই দিন বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে বাঘা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব ছায়া তদন্তের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। এর ধারাবাহিকতায় মিরপুর-১২ এলাকা থেকে সুরুজকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।