নিজস্ব প্রতিনিধি:
শেরপুর সদর উপজেলার ডুবারচর এলাকায় ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে গিয়ে টিনসেট নির্মিত একটি বিল্ডিংয়ের চাল ধসে এক তরুণ শিক্ষার্থীর হৃদয়বিদারক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলের এই দুর্ঘটনা স্থানীয় এলাকাবাসীকে গভীর শোক এবং হতবিহ্বলতার মধ্যে নিমজ্জিত করেছে। খেলাধুলার উত্তেজনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে—যা এলাকাবাসীর মনে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডুবারচর এলাকায় আয়োজিত ছিল একটি ক্রিকেট ফাইনাল ম্যাচ। প্রতিবারের মতো এবারও বিপুল সংখ্যক দর্শক মাঠ এবং তার আশপাশে ভিড় করেন। মাঠের চারপাশে পর্যাপ্ত বসার বা দাঁড়ানোর জায়গা না থাকায় অনেক দর্শক পাশের একটি টিনসেট বিল্ডিংয়ের চালে উঠে খেলা উপভোগ করছিলেন। যদিও টিনসেটের চাল এত মানুষ বহন করার মতো সক্ষম ছিল না, তবে কেউই সম্ভাব্য বিপদের কথা গুরুত্বসহকারে ভাবেননি।
দর্শকের ভিড় বাড়তে থাকায় একসময় টিনসেটের চাল অস্বাভাবিকভাবে দুলতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিকট শব্দে পুরো চাল ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এতে নিচে থাকা ব্যক্তিরা চাপা পড়ে যান আর উপরে থাকা দর্শকরা নিচে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও মুহূর্তের মধ্যে চিৎকার আর কান্নার রোল পড়ে যায় পুরো এলাকায়।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের মধ্যে ছিলেন ইসলামপুর উপজেলার নেকজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী রূপক শেখ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রূপক শেখ চাল ভেঙে পড়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ।
রূপকের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। পরিবার, বন্ধু, সহপাঠী ও পরিচিতজনরা বিশ্বাস করতে পারছেন না যে প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এই তরুণ এত দ্রুত চলে গেলেন। তার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, রূপক ছিলেন ভীষণ মিশুক ও অনুজদের প্রতি সহানুভূতিশীল। খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। তার এভাবে চলে যাওয়া সবাইকে ভেঙে দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, টিনসেট বিল্ডিংটি অনেক পুরনো এবং দুর্বল অবস্থায় ছিল, যা অতিরিক্ত ভর সহ্য করার মতো উপযোগী ছিল না। তবুও কেউ বিষয়টি নজরে আনেনি। তারা মনে করছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবই এমন দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার ব্যাপারে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আনন্দঘন একটি খেলাধুলার অনুষ্ঠান মুহূর্তেই শোকে ডুবে যায়। নিহত রূপক শেখের পরিবার এখন শোকে মুহ্যমান। তার অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই বড় ধরনের ক্ষতি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।