মোঃ আমজাদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাট আলু উৎপাদনে দেশের শীর্ষ এলাকাগুলোর একটি। রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষে আগাম আলুর বীজ রোপণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কৃষকরা। জমি প্রস্তুত, হালচাষ ও সার ছিটানো—সব মিলিয়ে দিন-রাত শ্রম দিচ্ছেন প্রান্তিক আলু চাষিরা।
কিন্তু গত কয়েক বছরের মতো চলতি মৌসুমেও সার সংকটে পর্যুদস্ত কৃষকরা। সংকটকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। ফলে বেশি দাম দিয়েও সার হাতে পাচ্ছেন না কৃষকরা।
গত মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক আলু উৎপাদন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাননি কৃষকেরা। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে নতুন করে আলু চাষের প্রস্তুতি নিলেও এবার সার সংকট তাদের আরও বিপাকে ফেলেছে।
কৃষকদের অভিযোগ—
“বেশি দাম দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না। বীজ থেকে শুরু করে জমি প্রস্তুত—সবই আটকে আছে সার না পাওয়ায়। এভাবে চললে আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বো।”
ডিলারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান—সরকারি বরাদ্দের তুলনায় কৃষকের চাহিদা বেশি হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে এ সংকট নিরসন সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ.কে.এম. সাদিকুল ইসলাম জানান,
গত বছর আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম কম ছিল। এজন্য এবছর সরকার জেলায় ৩৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। আগাম আলুর জন্য ৫ হাজার হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও টানা বৃষ্টিতে মাত্র ৫০০ হেক্টরে রোপণ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন—
“এ বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী সার সংকট হওয়ার কথা নয়। সিন্ডিকেট করারও সুযোগ নেই। কোথাও খুচরা বিক্রেতারা সমস্যা করলে কঠোর মনিটরিং চলছে, যাতে কৃষক কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হন।”