আঃ হামিদ
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের মধুপুর–ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষ্ণচূড়া, সোনালু ও কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মহাসড়কের দু’পাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) মধুপুর উপজেলার চাড়ালজানি এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জার্মান দাতা সংস্থা “লিচ ব্রুক”-এর অর্থায়নে এবং বিজিএস-সেডিপ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএস-সেডিপ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. মিলন চৌধুরীসহ বিজিএস-এর অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অতিথিরা মহাসড়কের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে মহাসড়কের দু’পাশ দিয়ে চলাচলের সময় সারি সারি কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুল, সোনালুর হলুদ ফুল আর তার ফাঁকে ফাঁকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা কাঠবাদাম গাছ পথচারী ও যাত্রীদের মন কাড়বে। এই নান্দনিক সৌন্দর্যের মাধ্যমে যাতায়াত আরও আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে।
বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। মধুপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ উদ্যোগ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে হলে নিয়মিতভাবে গাছ লাগাতে হবে এবং রোপিত গাছের পরিচর্যায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে মধুপুর–ময়মনসিংহ মহাসড়ক একসময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য দৃষ্টান্তে পরিণত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।