আলমগীর হোসেন সাগর স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় টানা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে কুয়াশা থাকার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত উপজেলার সড়ক, মাঠ ও ঘাট ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে। এতে দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ঝুঁকি এড়াতে অনেক যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। টানা কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে অনেক মানুষ সকালে স্বাভাবিক সময়ে কাজে যেতে পারছেন না। শীত নিবারণের জন্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। গাজীপুরের শ্রীপুরের হুমায়ুন মিয়া বলেন,সকালে কাজে বের হতে পারছি না। কুয়াশায় হাত-পা জমে যায়। আগুন না পোহালে শরীর চলে না।এই শীতের হাত থেকে রেহাই পায়নি গরু ছাগলও। এই তীব্র শীতে বেড়ে গেছে গরু-ছাগলের রোগ বালাই। মাওনা এলাকার দিনমজুর উজ্জ্বল মিয়া জানান, ভোরে কাজে যেতে দেরি হচ্ছে। ঠান্ডায় কাজ করা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষ এসব রোগে বেশি ভুগছেন। মাওনা চৌরাস্তার হোটেলের একজন শ্রমিক বলেন, সারারাত কনকনে ঠান্ডা থাকে, দিনের বেলাতেও একই অবস্থা। কাজ না করলে সংসার চলবে না, তাই কষ্ট নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। মাওনা চৌরাস্তায় কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা হয় তারা বলেন,কয়েক দিন ধরে এমন ঠান্ডা পড়েছে যে কাজে যেতে পারছি না। হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে বের হয়েছি। এদিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহ বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে। হাসপাতালে আসা আব্দুল হক নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তানের কয়েক দিন ধরে জ্বর ও সর্দি। গ্রামের ডাক্তার দেখিয়েও ভালো হয়নি, তাই হাসপাতালে এনেছি। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, শীতকালে শিশুদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের বাইরে বের করা উচিত নয়। কুয়াশা ও ঠান্ডা থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় আগামী কয়েক দিন সকাল পর্যন্ত কুয়াশা থাকতে পারে এবং শীতের অনুভূতিও অব্যাহত থাকতে পারে। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামরুজ্জামান বলেন,ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে ভোরে যানবাহন চালানোর সময় হেডলাইট ও সতর্ক সংকেত ব্যবহার করার জন্য চালকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।