আশিকুী রহমান, গাজীপুর: গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামে আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের শেষ দিনে টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি উদ্যোগে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বাদ আছর টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিনের আয়োজনে টঙ্গী পশ্চিম থানার বেপারী বাড়ি এলাকায় এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে উপস্থিতদের মাঝে তোবারক বিতরণ করা হয়। দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব এবং দেশ ও জাতির শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে সাধারণ মাদ্রাসার ছাত্রদের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। শোক ও প্রার্থনার আবহে পুরো প্রাঙ্গণে নেমে আসে গভীর নীরবতা যেন স্মরণ করা হয় এক সংগ্রামী জীবনের ত্যাগ, লড়াই ও দৃঢ় নেতৃত্বের ইতিহাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আজিজুল হক রাজু মাস্টার, খাদিজা আক্তার বীনা, শেখ মো. সুমন, সেলিম কাজল, আবদুস সাত্তার, আলমগীর হোসেন ভাসানী, সেলিম বেপারি, শামীম বেপারি, সাইদুল ইসলাম জনি, রেদোয়ানুর রহমান প্রত্যায় বেপারিসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক দৃঢ় স্তম্ভ। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার সংগ্রামে তার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারাবরণ, মামলা ও নানা নির্যাতনের মুখেও তিনি গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। এ কারণেই তিনি মানুষের কাছে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে পরিচিত। বক্তারা আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ছিল দৃঢ়, সিদ্ধান্তে ছিল অনড়তা এবং আদর্শে ছিল আপসহীনতা। তার নেতৃত্বে পরিচালিত রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রীয় শোকের এই দিনে আয়োজিত দোয়া মাহফিলটি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয় এটি ছিল একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গণতন্ত্রের আদর্শ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এক আবেগঘন আয়োজন।