মোঃ আমজাদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশের প্রথম নারী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনে উদাসীনতা দেখা গেছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানরা দায়সারা বক্তব্য দিলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি (২০২৬) পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সরেজমিন চিত্র: শুক্রবার (২ জানুয়ারি) শোক দিবসের শেষ দিনেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় নির্দেশনার চরম অবজ্ঞা। সরেজমিনে রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাগজানা উচ্চ বিদ্যালয়, বাগজানা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, বালিঘাটা ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, শ্রীমন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীমন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনই করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: পতাকা উত্তোলন না করার বিষয়ে বালিঘাটা ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের পরিদর্শিকা জোসনা আকতার জানান, পতাকা তোলার লোক নেই এবং পতাকা টাঙানোর বাঁশটি ভেঙে যাওয়ায় তারা এটি করতে পারেননি। এছাড়া বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই ব্যর্থতার দায় দপ্তরী বা নৈশ প্রহরীর ওপর চাপিয়ে দায়সারা বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেনি, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”