
এইচ এম আলাউদ্দিন | শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের চর কৈজুরী গ্রামে অবস্থিত কৈজুরী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি প্রতিষ্ঠানটিকে।
কৈজুরী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে বহু শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশে ও বিদেশে ডাক্তার, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ারসহ সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পেশায় সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এলাকার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। শিক্ষা-বান্ধব ও সময়োপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে এই স্কুল ও কলেজ।
লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের কারণে উপজেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কৈজুরী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজ শাখায় ১৩ জন এবং স্কুল শাখায় ১৭ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষকদের আন্তরিক তত্ত্বাবধানের কারণে তারা প্রতিবছরই ভালো ফলাফল অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। ধারাবাহিক সাফল্যে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হাজী অ্যাডভোকেট খালেক জানান, অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের মাধ্যমে পাঠদান, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা, ক্লাস মনিটরিং সেল গঠনের মাধ্যমে নিবিড় পরিচর্যা, বছরে দুইটি ক্লাস টেস্ট, একটি নির্বাচনী পরীক্ষা এবং বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, সুপরিসর বিজ্ঞানাগার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, স্পোকেন ইংলিশ শিক্ষা কার্যক্রম, প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্লাইড-শোসহ আনন্দদায়ক পাঠদান ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম এবং সমৃদ্ধ পাঠাগারসহ শিক্ষার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
অধ্যক্ষ বলেন, “সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো কঠোর শৃঙ্খলা, শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ এবং বছর শেষ হওয়ার আগেই সিলেবাস সম্পন্ন করা। অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিত করে অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে সমাধান দেওয়া হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে নতুন কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে আরও উন্নত করেছে।