আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো | ৬ জানুয়ারি, ২০২৬
রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে আটকের পর মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ শেষে ছেড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
গত রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলীকে (৭০) আটক করে পুলিশ। তিনি ওই ইউনিয়নের বালিয়াঘাটা গ্রামের ইসাহাক মহাজনের ছেলে। আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এএসআই সেলিম। তিনি জানান, ওসির নির্দেশে তাকে আটক করা হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যায় আটকের পর রাত ১২টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিএনপি নেতাদের দাবি, বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতারা উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এলাকাবাসীর মতে, গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের শাসনকালে মোহাম্মদ আলী এলাকায় বিভাজন ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাধারণ মানুষকে ভোটদানে বাধা দেওয়া এবং ভিন্নমতের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গোদাগাড়ী থানা এলাকা এখন ‘আটক বাণিজ্য কেন্দ্রে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, একদিকে সাধারণ মানুষকে ‘আওয়ামী লীগ ট্যাগ’ দিয়ে হয়রানি ও অর্থ দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতাদের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া একই থানার এএসআই ফজলুর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে ইতোমধ্যে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে গোদাগাড়ী থানার ওসি হাসান বাশিরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। থানায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি এবং মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করা হয়েছিল এটা সঠিক। তবে তাঁর বয়স ৭৫ বছরের বেশি হওয়ায় মানবিক বিবেচনায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। টাকা গ্রহণের বিষয়টি সঠিক নয়। এরপরেও যদি কোনো ভুক্তভোগী নির্দিষ্ট অভিযোগ দেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”