মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর প্রতিনিধি: দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে দলের কোনো বৈধ প্রার্থী না থাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে গভীর হতাশা ও সংশয় দেখা দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী আশঙ্কা করছেন, আসনটি শেষ পর্যন্ত জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর জন্য ফাঁকা হয়ে যেতে পারে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগের প্রয়োজনীয় ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য বা প্রমাণপত্র দাখিল করতে না পারায় ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্রটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে আইন অনুযায়ী তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছি। কিন্তু বড়দিন ও খ্রিষ্টীয় নববর্ষের ছুটির কারণে সেখানকার দূতাবাস বন্ধ থাকায় সময়মতো ‘একনলেজমেন্ট স্লিপ’ হাতে পাইনি। দুই-চার দিনের মধ্যেই কাগজ চলে আসবে। আপিল করলে আমি অবশ্যই প্রার্থিতা ফেরত পাব।”
আসনটিতে বিএনপির ৫ জন নেতা মনোনয়নপত্র চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ফাহিম চৌধুরীকেই দল বেছে নেয়। তবে এই সংকটকালীন মুহূর্তে ডামি প্রার্থী না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. খোরশেদুর রহমান বলেন, “আমি বলেছিলাম বিকল্প হিসেবে ওনার মায়ের নামে একটি মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রাখতে, কিন্তু উনি গুরুত্ব দেননি। এখন পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় দেখা যাক।”
অন্যদিকে, দলের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ইলিয়াস খানের হাতে দলের চিঠি না থাকায় তার মনোনয়নও বাতিল হয়েছে।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া বলেন, “আইনের ছাত্র হিসেবে আমি যতটুকু বুঝি, ফাহিম ভাই যে সময়ে নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন, তাতে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া খুব কঠিন। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাকে মাঠে চাইলেও বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটারদের মতে, যদি ফাহিম চৌধুরী আপিলে ব্যর্থ হন, তবে এই আসনে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি থাকবে না। সেক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীর পথ সুগম হতে পারে অথবা রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা তাকিয়ে আছেন নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের দিকে।