প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১৫, ২০২৬, ৪:২৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১৪, ২০২৬, ১:৪৩ পি.এম
বাঘায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, তবে ন্যায্য দাম না পেয়ে লোকসানের শঙ্কায় কৃষকরা
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরে চলতি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জুড়ে পেঁয়াজের সমারোহ থাকলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে আশানুরূপ দাম না থাকায় চরম হতাশায় দিন কাটছে স্থানীয় চাষিদের।
উৎপাদন খরচ ও বাজার পরিস্থিতি চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর বীজ, সার ও কিটনাশকের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। কালিদাসখালী চরের চাষি মহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচ তোলাও মুশকিল হয়ে পড়েছে।
খায়েরহাট এলাকার চাষি দুলাল আলী জানান এক মর্মান্তিক হিসাব। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে চার বিঘা জমি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় লিজ নিয়েছেন। আবাদ করতে আরও খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। বর্তমান বাজার মূল্যে তার মূলধন ফেরাই এখন অনিশ্চিত।
ভারত থেকে আমদানিতে ক্ষোভ পেঁয়াজ চাষি আসাদুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর দেড়শ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম নেই। তার মতে, "মোকামে চাহিদা থাকলেও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির কারণে দেশি পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। সরকার যদি এই মুহূর্তে আমদানি বন্ধ না করে, তবে সাধারণ চাষিরা পথে বসে যাবে।" একই সুর শোনা গেল পেঁয়াজ ক্রেতা রইস উদ্দিনের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ভরা মৌসুমে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আসায় চাষিরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কৃষি অফিসের তথ্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, বাঘার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়েছে পদ্মার চরাঞ্চলে।
তিনি আরও জানান, মৌসুমের শুরুর দিকে যারা আগাম জাতের পেঁয়াজ তুলেছেন তারা ভালো দাম পেলেও, বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের হিড়িক পড়ায় বাজার কিছুটা নিম্নমুখী।
হতাশ নারী শ্রমিকরাও পেঁয়াজ উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিক জয়গন বেগম জানান, গত বছর এই সময়ে চাষিরা লাভবান হলেও এবার উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের মানুষের অভাব দূর হচ্ছে না।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত