নিজস্ব সংবাদদাতা, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) | ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এলপিজি রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সিলিন্ডার। এই কৃত্রিম সংকটে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ খুচরা দোকানেই এলপিজি সিলিন্ডার নেই। দোকানের সামনে সারি সারি খালি সিলিন্ডার পড়ে থাকলেও তাতে গ্যাস নেই। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও তার জন্য গুণতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।
গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছে। এতে রান্নার কাজ সাময়িকভাবে চললেও মাস শেষে চড়া বিদ্যুৎ বিল আসার আশঙ্কায় নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গ্রাহকরা।
স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে। পৌর এলাকার চৌমাথা বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শামসুল হক মোল্লা জানান:
"কিছুদিন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এখন অল্প কিছু বিএম গ্যাস পাওয়া গেলেও পাইকারি দামই রাখা হচ্ছে ১৪৫০ টাকা। পরিবহন খরচ মিলিয়ে আমাদের বাধ্য হয়ে ১৫৫০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।"
কলসকাঠী ইউনিয়নের গ্রাহক ছালাম হোসেন জানান, গত সপ্তাহে তাকে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৭০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংকটের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এলপিজি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন করে এলপিজি বহনকারী জাহাজ দেশে না আসা পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি কাটবে না। অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী মজুদ না থাকায় দোকান বন্ধ করে অলস সময় পার করছেন। সরবরাহ কম থাকায় সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, "গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে আমাদের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।"