রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগরে আগুনে দগ্ধ বাসন্তী রানী (২৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলার হরিপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বাসন্তী রানী হরিপুর গ্রামের প্রবাসী উৎপল চন্দ্রের স্ত্রী। তার মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনা চলছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, তাকে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দগ্ধ করা হয়েছে।
বাসন্তীর শ্বশুর কৃষ্ণবন্ধু ওরফে মুন্টু জানান, সোমবার সকালে পরিবারের সবাই মাঠে আলু তুলতে যান। বাড়িতে তখন বাসন্তী একাই ছিলেন। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে আলু রাখার জন্য বস্তা আনার কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বাড়িতে এসে দেখা যায়, চুলার পাশে বাসন্তীর শরীরে আগুন জ্বলছে। প্রতিবেশীদের ডাকা হলেও ততক্ষণে তার শরীর সম্পূর্ণভাবে আগুনে দগ্ধ হয়ে যায়। তিনি ধারণা করেন, চুলায় খড়ি দিয়ে ভাত গরম করার সময় আগুন লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে নিহতের ছোট বোন লক্ষী রানী ভিন্ন দাবি করে বলেন, কয়েক মাস আগে বাসন্তীর শাশুড়ি মারা যান। এরপর তিন বছরের এক কন্যা সন্তান নিয়ে শ্বশুরের সঙ্গে বাড়িতে থাকতেন তিনি। তার স্বামী উৎপল চন্দ্র কুয়েতে থাকেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফোনে দ্বন্দ্ব হতো। রোববার বাসন্তী তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। অথচ পরদিনই তার মরদেহ উদ্ধার হয়।
নিহতের মামা গোপেস চন্দ্র বলেন, তার ভাগনী আগুনে পুড়ে মারা যায়নি; বরং তাকে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আগুনে দগ্ধ হলে সাধারণত বাঁচার চেষ্টা ও ছটফটানির আলামত থাকে। কিন্তু মরদেহের অবস্থান দেখে তেমন কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।
রাণীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বাবলু চন্দ্র পাল জানান, আগুনে দগ্ধ অবস্থায় বাসন্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।