হাবিবুর রহমান
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কিশোর গ্যাংয়ের বর্বর হামলায় গুরুতর আহত স্নাতক পরীক্ষার্থী আশ্রাফুল ইসলাম (২৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার ধানমন্ডির নিউলাইফ বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভগ্নীপতি স্বপন মালত।
নিহত আশ্রাফুল ইসলাম রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকার খান বাড়ির আজিজুল হকের ছেলে। তিনি রায়পুর রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের স্নাতক পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে এলাকায় বিরাজ করছে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ঢালিকান্দি গ্রামের একটি ফসলি খেত থেকে আশ্রাফুলকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আসা কিশোর গ্যাং সদস্য ও মাদকসেবী শাহিন বেপারি (২৬)-এর নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র কিশোর গ্যাং পরিকল্পিতভাবে আশ্রাফুলের ওপর হামলা চালায়। ইট দিয়ে মাথায় আঘাতসহ বেধড়ক মারধরের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আজিজুল হক বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত শাহিন বেপারিকে গ্রেপ্তার করেছে। আশ্রাফুলের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মামলার সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারা দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন,
“হামলায় আহত কলেজ ছাত্র আশ্রাফুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”