হাবিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চল রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৪ আসন। রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘হেভিওয়েট’ হিসেবে পরিচিত বিএনপি অধ্যুষিত এই আসনটি এবারও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। এখানে লড়াই হচ্ছে ৯ প্রার্থীর মধ্যে, তবে ভোটারদের মুখে মুখে এখন চার প্রার্থীর নাম।
এ আসনে মূলত চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আলোচনার শীর্ষে থাকা প্রার্থীরা হলেন:
এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান: (বিএনপি - ধানের শীষ)
মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ: (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ - হাতপাখা)
তানিয়া রব: (জেএসডি - তারা)
এ আর হাফিজ উল্লাহ: (জামায়াতে ইসলামী)
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মিলন মন্ডল (বাসদ), রিদওয়ান উল্যা খাঁন (গণঅধিকার পরিষদ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল হুদা চৌধুরী, আ ন ম মনজুর মুরশেদ ও শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল।
মাঠে থাকা চার হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজান ও জেএসডির তানিয়া রবের বিশেষ নজর এখন আওয়ামী লীগের ভোটারদের দিকে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে বা কারাবন্দি থাকলেও তৃণমূলের বিশাল একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই দুই প্রার্থী গোপনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাদের ভোটকেন্দ্রে আনার চেষ্টা করছেন।
তানিয়া রব এ প্রসঙ্গে বলেন, "আওয়ামী লীগের যারা অপরাধ করেছে তারা পালিয়েছে। তবে নিরপরাধ সাধারণ সমর্থকদের ভোট আমি পাব বলে আশা করি।" অন্যদিকে আশরাফ উদ্দিন নিজান আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "এলাকার স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে মানুষ আমাকে সমর্থন দেবে।"
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী ব্যস্ত নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
ইসলামী আন্দোলন: কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং দলের শক্তিশালী ভোট ব্যাংক নিয়ে ‘হাতপাখা’ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। দলটির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচিত হলে এলাকায় কোনো ‘মব কালচার’ বা রাজনৈতিক দমন-পীড়ন হতে দেওয়া হবে না।
জামায়াতে ইসলামী: এ আর হাফিজ উল্লাহর পক্ষেও সমানে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। তবে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন আলাদাভাবে নির্বাচন করায় ভোট ভাগাভাগির শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে ধানের শীষকে সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সচেতন ভোটাররা বলছেন, আশরাফ উদ্দিন নিজান সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিগত ইমেজে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে, একসময় এই আসনটি আ স ম আবদুর রবের (জেএসডি) ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে সেই জৌলুস কিছুটা কমেছে। তবে তানিয়া রবের পক্ষে বিএনপির একটি অংশ মাঠে থাকায় তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেন।
পর্যবেক্ষণ: শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নীরব ভোটাররা কার দিকে ঝুঁকবেন এবং ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের ভোট যুদ্ধের প্রভাব কী হবে—তার ওপরই নির্ভর করছে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল।