মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর প্রতিনিধি | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
শেরপুর: শেরপুরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শুরুর অনেক আগেই ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা থেকে হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ কলেজ মাঠে সমবেত হন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে আজ শেরপুরে নিয়ে আসা হয়। বিকেলে শ্রীবরদীতে প্রথম জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর, রাত আটটায় গোপালখিলা এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
গতকালকের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় শেরপুরের সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম রাজনৈতিক দলগুলোকে সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না।” উল্লেখ্য, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে প্রশাসনের আয়োজনে প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন। এছাড়া আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। দীর্ঘ সময় পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।