পি. কে রায়, বিশেষ প্রতিনিধি (দিনাজপুর) | নিউজ গ্রামবাংলা প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আধুনিক কৃষির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘আদর্শ (কমিউনিটি) বীজতলা’। সনাতন পদ্ধতির চেয়ে খরচ কম এবং মানসম্মত চারা পাওয়ায় দিন দিন এই প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় উদ্যমী কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আদর্শ বীজতলা তৈরিতে ধান উৎপাদন খরচ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বর্তমানে শীত ও কুয়াশার হাত থেকে চারা রক্ষা করতে অনেক কৃষক পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিচ্ছেন।
আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরির নিয়ম হলো—প্রথমে ১ মিটার প্রস্থ ও ৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে বেড তৈরি করতে হয় এবং প্রতিটি বেডের মাঝে ৫০ সেন্টিমিটার নালা রাখা হয়। এতে শ্রম, স্থান এবং সেচ খরচ অনেক কম লাগে। ২৪ ঘণ্টা পানিতে ভেজানো বীজ ছিটানোর ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যেই চারা রোপণের উপযোগী হয়ে ওঠে।
উপজেলার নশরতপুর, সাঁইতাড়া ও আব্দুলপুর ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, আগে সনাতন পদ্ধতিতে চারা তৈরি করতে গিয়ে পোকামাকড় ও কোল্ড ইনজুরির (শীতকালীন বালাই) কারণে অনেক চারা নষ্ট হতো। কিন্তু কৃষি বিভাগের পরামর্শে আদর্শ বীজতলা করায় চারা সতেজ ও পুষ্ট হচ্ছে, পরিচর্যা করাও সহজ হয়েছে।
নশরতপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ খাদেমুল ইসলাম জানান, আদর্শ বীজতলায় চারা উৎপাদন করলে কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকি থাকে না। নালা থাকায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায় এবং আলো-বাতাস চলাচলের কারণে চারাগুলো সুস্থ-সবল হয়।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানান, "উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। উফশী ও হাইব্রিড মিলিয়ে ৯৭০ হেক্টরের বেশি জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫০ হেক্টরই হলো আদর্শ বীজতলা। সুস্থ চারা ও বৈরি আবহাওয়া মোকাবিলার জন্য আমরা কৃষকদের এই প্রযুক্তিতে উৎসাহিত করছি।"