
ধর্মীয় প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত রজনী ‘পবিত্র শবেবরাত’ আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সারা দেশে পালিত হবে। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত এই রাতটিকে হাদিস শরিফে ‘নিসফ শাবান’ বা শাবানের মধ্যরাত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত গত ১৯ জানুয়ারি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় শবেবরাতের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, গত ২০ জানুয়ারি রজব মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ায় ২১ জানুয়ারি থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হয়েছে। সেই হিসেবে ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্পারসোর তথ্য পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।
শবেবরাতের গুরুত্ব ও হাদিসের বর্ণনা শবেবরাতের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে হজরত আয়শা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে নামাজে এত দীর্ঘ সেজদা করলেন যে আমার মনে সংশয় জাগল তিনি ইন্তেকাল করেছেন কি না। নামাজ শেষে নবীজি (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি জানো এটি কোন রাত?’ আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন—
"এটি হলো অর্ধ-শাবানের রাত (শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত)। আল্লাহ তায়ালা এই রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেন। ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। তবে বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন।" (বায়হাকি)
আমল ও করণীয় ওলামায়ে কেরামদের মতে, এই রাতে ইবাদতের কোনো নির্দিষ্ট ধরন বা পদ্ধতি নেই। তবে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও তওবা-এস্তাগফারের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা উচিত। মহান আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত কামনায় মুসলিম উম্মাহ এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে শবেবরাত পালনের লক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ দোয়া ও আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।