আবুল হাশেম রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি ঢাকা/রাজশাহী: বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার বিষয়ক ঐতিহাসিক গণভোট। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনের বিশেষত্ব হলো—সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা সংবিধান সংস্কার ও প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর তাদের রায় দিচ্ছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। এবারের নির্বাচনের কিছু উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন।
ভোটকেন্দ্র: ৪২ হাজার ৭৭৯টি।
অংশগ্রহণকারী দল: নিবন্ধিত ৫০টি রাজনৈতিক দল।
প্রার্থী সংখ্যা: ২ হাজার ২৮ জন (দলীয় ১,৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন)।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ভোটারকে দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট দেওয়া হচ্ছে:
সাদা ব্যালট: সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য।
গোলাপি ব্যালট: সংবিধান সংস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে ‘হ্যাঁ/না’ রায় প্রদানের জন্য।
নির্বাচনে কারচুপি রোধে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার নজিরবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রে নজরদারির জন্য ৫০০-এর বেশি ড্রোন এবং ২৫ হাজার পুলিশ সদস্যের শরীরে বডি-ওর্ন ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনা সদস্য ছাড়াও বিজিবি, র্যাব, নৌ ও বিমানবাহিনী সক্রিয় রয়েছে। নির্বাচনী অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচারে মাঠে রয়েছেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবার প্রবাসীদের পূর্ণাঙ্গ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ই-কেওয়াইসি ও ফেসিয়াল ভেরিফিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এবার ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশি ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি কমনওয়েলথ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আনফ্রেল-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ৩৯৪ জন পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দিনভর শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। এখন সবার দৃষ্টি এই যুগপৎ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামীর নতুন বাংলাদেশ।