শেখ খায়রুল ইসলাম, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পাইকগাছা, খুলনা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে অবস্থিত বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী, ভারতীয় রসায়ন শাস্ত্রের জনক আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (পি সি রায়)-এঁর জরাজীর্ণ পৈতৃক ভিটা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। অবহেলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই ঐতিহাসিক বাড়িটি সংস্কারের মাধ্যমে তার হারানো ঐতিহ্য ও জৌলুস ফিরে পাবে বলে আশাবাদী এলাকাবাসী।
সংস্কার প্রকল্পের বিস্তারিত: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে উত্তর পাশের দোতলা ভবনের ৫টি কক্ষ, দুটি বারান্দা, বাইরের পলেস্তারা এবং চারপাশের নান্দনিক নকশা ও রঙের কাজ চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে এই পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। পরবর্তী ধাপে বাড়ির ভেতরের ভবন ও মন্দির সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
দখলমুক্ত করার দীর্ঘ ইতিহাস: স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজ্ঞানী পি সি রায়ের প্রায় ৫ একর সম্পত্তি ১৯৮৫ সাল থেকে বেদখল ছিল। ‘আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ফলে ২০০৩ সালে বাড়িটি দখলমুক্ত হয়। তবে ৫ একর সম্পত্তির মধ্যে মাত্র ৯৬ শতক জমি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর গ্রহণ করায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ছিল। বর্তমানে আইনি জটিলতা কাটিয়ে পুরো সম্পত্তি সংরক্ষণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্মৃতিবিজড়িত অনন্য স্থাপনা: স্যার পি সি রায় ছিলেন মার্কারি ও মারকিউরাস নাইট্রেটের আবিষ্কারক এবং ভারতের প্রথম শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস’-এর প্রতিষ্ঠাতা। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবা ও শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান অতুলনীয়। কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত তার এই ২০০ বছরের পুরনো পৈতৃক ভিটাটি সংস্কার হলে এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হবে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাবেক সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ হরেকৃষ্ণ দাশ বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বাড়িটি দখলমুক্ত ও সংস্কারের জন্য আন্দোলন করেছি। বিলম্বে হলেও সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে সাধুবাদ জানাই।"
খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) মো. মহিদুল ইসলাম জানান, "বাড়ির আদি নকশা ঠিক রেখেই সংস্কার করা হচ্ছে। সীমানা প্রাচীর ও ‘ডিসপ্লে রুম’ তৈরির পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। তবে সম্পত্তির ওপর দুটি মামলা চলমান আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি হলে পুরো এলাকাটি আমরা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারব।"