
মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের লয়খা গ্রামে একটি মাছের প্রজেক্টে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি কেটে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ছয়টি পুকুর নিয়ে গড়ে ওঠা মৎস্য খামারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং মৎস্যচাষী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মৎস্যচাষী শফিকুল ইসলাম রহিম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লয়খা মোল্লা বাড়ির দক্ষিণ পাশে পরিষদের রাস্তা থেকে পূর্ব দিকে জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সম্মতিক্রমে নিজ অর্থায়নে ভ্যান চলাচলের উপযোগী একটি রাস্তা নির্মাণ করেন মো. আব্দুল করিম দুদু ও তার পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তা ব্যবহার করে চারটি মাছের প্রজেক্টে খাদ্য সরবরাহ ও উৎপাদিত মাছ পরিবহন করা হয়ে আসছিল। স্থানীয় সাধারণ মানুষও যাতায়াতের প্রয়োজনে এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, একই এলাকার মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে মো. হবিবুর রহমান হবি (৬০) তার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে সম্প্রতি রাস্তাটি কেটে গর্ত করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
মৎস্যচাষী শফিকুল ইসলাম রহিম জানান, তার মোট ছয়টি পুকুর রয়েছে। প্রতিদিন মাছের খাদ্য আনা ও বাজারজাতের জন্য এই রাস্তাটিই একমাত্র ভরসা। কিন্তু রাস্তার অর্ধেক অংশ কেটে গর্ত করে দেওয়ায় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মাছের খাদ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না এবং সময়মতো মাছ বাজারে নিতে না পারায় চরম আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়: জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চলতি মাসে হবিবুর রহমানের নির্দেশে তার পুত্রবধূ লিজা প্রকাশ্যে রাস্তাটি কেটে গর্ত করেন, যাতে সরু আইল ছাড়া অন্য কোনোভাবে মালামাল পরিবহন সম্ভব না হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হবিবুর রহমান হবি বলেন, "আমি ইউসুফ মেম্বারের বাবা মনির উদ্দিনের কাছ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে জমিটি কিনেছি। শফিকুল গংরা আমার ক্রয়কৃত জমি বেদখল করেছে। তাই ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে যাওয়া রাস্তার একপাশে মাটি খনন করেছি। জমি ছেড়ে না দিলে পুরো রাস্তা ব্যবহার করতে দেব না।"
হাতিবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে একাধিকবার আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একপক্ষের অসহযোগিতার কারণে এখনো কোনো সমাধান সম্ভব হয়নি।
মৎস্যচাষী শফিকুল ইসলাম রহিম আক্ষেপ করে বলেন, "রাস্তাটি দ্রুত খুলে না দিলে আমার মাছের প্রজেক্টে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।" তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।