আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লক্ষ্যে রবিবার এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। গত পাঁচ দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান এখন নেতৃত্ব পুনর্গঠনের চরম পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ, আকাশপথের যোগাযোগ এবং বিশ্ব বাণিজ্যে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের পাল্টা হামলায় ৩ জন এবং কুয়েতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নেতৃত্বশূন্য ইরান ও খামেনির মৃত্যু ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তাদের বিমান হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। হামলার সময় খামেনি তার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এই হামলায় তার মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ এবং নাতিও নিহত হয়েছেন।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খামেনি যখন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করছিলেন, তখনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে সেই সময়টিকে বেছে নিয়ে হামলা চালায়।
ইরানের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সংঘর্ষ খামেনির মৃত্যুর খবরে ইরানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ শোক প্রকাশ করলেও, অনেকে রাস্তায় নেমে উল্লাস করেছেন। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাগম ও কান্নার দৃশ্য দেখা গেলেও, দেহলুরান শহরে খামেনির ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং কারাজ শহরে মানুষকে উল্লাস করতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে খামেনির নির্দেশে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির মৃত্যুকে 'কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড' এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একে 'নগ্ন আগ্রাসন' হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস একে ইরানের ইতিহাসের একটি 'নির্ধারক মুহূর্ত' বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, ইরান পাল্টা হামলা চালালে তার ওপর "অকল্পনীয় শক্তি" প্রয়োগ করা হবে। জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে "নোংরা অপরাধী" আখ্যা দিয়ে ভয়াবহ প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন।
বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ধস হামলার পর হরমুজ প্রণালীতে অন্তত ১৫০টি অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি ট্যাংকার আটকে পড়েছে। দুবাই এবং দোহায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে ধোঁয়া দেখা গেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলো বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক আকাশপথে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির মৃত্যু ইরানের ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা হলেও, এটি বিপ্লব রক্ষী বাহিনীর প্রভাব রাতারাতি শেষ করে দেবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স (Reuters)