মনজু হোসেন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি | ১ মার্চ, ২০২৬
পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের তেঁতুলিয়া উপজেলার কালান্দি বাজার এলাকায় ‘মেসার্স এইচ আর এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশনে’ চলছে ভয়াবহ অনিয়ম। গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস অবৈধভাবে রিফিল করা হচ্ছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত সাধারণ সিলিন্ডারে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত লাভের আশায় স্টেশন কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার এলপিজি এবং গাড়ির এলপিজির সংমিশ্রণে ব্যাপক পার্থক্য থাকে।
রান্নার গ্যাস: এতে ৭০% প্রোপেন ও ৩০% বিউটেন থাকে।
গাড়ির গ্যাস: এতে ৬০% প্রোপেন ও ৪০% বিউটেন থাকে।
গাড়ির গ্যাস তৈলাক্ত হওয়ায় রান্নার সিলিন্ডারে তা রিফিল করলে সিলিন্ডারের নিচে জমে থাকে, যা সামান্য নাড়াচাড়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত খালি সিলিন্ডার পিকআপ, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে এই স্টেশনে আনা হয়।
স্টেশনের মালিক প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে ৭৪২ টাকার গ্যাস ভরে গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন ১৩০০ টাকা।
প্রতিটি সিলিন্ডারে মুনাফা হচ্ছে প্রায় ৫৫৮ টাকা।
নির্ধারিত বাজার মূল্যের চেয়ে ৩-৪শ টাকা কমে পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ঝুঁকি না বুঝেই এই গ্যাস কিনছেন।
তেঁতুলিয়া এলাকার একাধিক বৈধ সিলিন্ডার ব্যবসায়ী জানান, এইচ আর ফিলিং স্টেশনের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে তাদের ব্যবসা ধসে পড়ছে। কম দামে রিফিল পাওয়া যাওয়ায় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখান থেকেই গ্যাস নিচ্ছে। অভিযোগ করেও এর কোনো প্রতিকার মিলছে না।
স্টেশনের ম্যানেজার রুপচাঁন জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তারা রান্নার সিলিন্ডারে রিফিল করছেন। অন্যদিকে, স্টেশনের মালিক রুমেল দায়িত্ব এড়িয়ে বলেন, "গ্যাস স্টেশনের দায়িত্বে আবু হিরন ভাই, তাকে কল দিন।" তবে আবু হিরনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তেঁতুলিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ সিরাজুল হক বলেন, "রান্নার গ্যাস আর গাড়ির গ্যাস এক নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন আফরোজ খসরু জানান, "বিষয়টি আমাদের কানেও এসেছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সতর্কতা: অবৈধভাবে রিফিল করা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এটি আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।