আমিরুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরশহরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত কোটি টাকার ‘কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টার’ এখন অব্যবস্থাপনার চরম শিকার। ২০১২ সালে শুরু হয়ে ২০১৫ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া ছয় তলা বিশিষ্ট আধুনিক এই ভবনটি বর্তমানে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আর ভবনটি পরিণত হয়েছে সাপ-বিচ্ছুর আস্তানায়।
প্রকল্পের ধীরগতি ও অচল অবস্থা সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র ও স্বল্প শিক্ষিত নারীদের স্বাবলম্বী করতে ৪ বছর মেয়াদি প্রকল্পের আওতায় ভবনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। নার্সারি, কৃষি যন্ত্রপাতি মেরামত, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইলেকট্রনিক্স ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সুইংয়ের মতো ৬টি ট্রেডে নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এছাড়া কম্পিউটার ও বিউটিফিকেশনের যন্ত্রপাতি আনা হলেও প্রশিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০ জন নারী এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালের পর নতুন প্রকল্প গ্রহণ না করায় এবং উপ-পরিচালককে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করায় হোস্টেলটি অচল হয়ে পড়ে। একইসাথে বন্ধ হয়ে যায় ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাও।
কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংসের পথে বর্তমানে ৬ তলা বিশিষ্ট এই ভবনে জমেছে ময়লা ও ধুলাবালুর আস্তরণ। জানালা খোলা থাকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রে কবুতর ও চড়ুই পাখি বাসা বেঁধেছে। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা খাট, বিছানাপত্রসহ বিভিন্ন ট্রেডের দামি সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভবনের নকশাগত ত্রুটির কারণে দেওয়ালগুলো ড্যাম হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সামেদুল ইসলাম তালুকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকায় সেন্টারটি এখন সাপ, বিচ্ছু ও শিয়ালের বাড়িতে পরিণত হয়েছে। এটি পুনরায় চালু করা হলে এলাকার নারীরা উপকৃত হতো।”
প্রশাসনের বক্তব্য নালিতাবাড়ী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই ট্রেনিং সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজওয়ানা আফরিন বলেন, “কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টারটি পুনরায় চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যেই এটি চালু করা সম্ভব হবে।”