
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পরবর্তী শাসনের জন্য তার কাছে তিনজনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা রয়েছে। রোববার (১ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার পর শাসনভার পরিচালনার জন্য তার কাছে ‘তিনটি খুবই ভালো পছন্দ’ রয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে তিনি এখনই কারো নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি বলেন:
“আমি এখনই তাদের নাম বলব না। আগে আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হোক, তারপর সময় হলে সবাই জানতে পারবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকার মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানে একটি বড় ধরণের রাজনৈতিক পরিবর্তনের (Regime Change) ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
এদিকে, তেহরান জানিয়েছে তারা তাদের নিজস্ব সংবিধান অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন:
বর্তমানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল (প্রেসিডেন্ট, বিচারবিভাগের প্রধান ও ফকিহ সদস্য) সাময়িকভাবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করছে।
ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই স্থায়ী উত্তরসূরি বেছে নিতে পারে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশ কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন: ১. মোশতবা খামেনি: আয়তুল্লাহ খামেনির প্রভাবশালী পুত্র। ২. আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি: বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলের সদস্য। ৩. আলী লারিজানি: ইরানের সাবেক স্পিকার ও ঝানু রাজনীতিক।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানজুড়ে এখন শোক ও উত্তজনা বিরাজ করছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, ৪৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এমন বড় সংকটের মুখে পড়ল। বিশ্বনেতারা এখন তাকিয়ে আছেন তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।