
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে এক নজিরবিহীন ঘোষণা দিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো ফ্রান্স তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের ‘ইল লঁগ’ সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি এবং ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণেই এই পদক্ষেপ। বর্তমানে ফ্রান্সের হাতে ৩০০টিরও কম পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। তবে নতুন করে ঠিক কতটি ওয়ারহেড যুক্ত করা হবে, তা নিরাপত্তার খাতিরে গোপন রাখা হয়েছে। এখন থেকে পারমাণবিক অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা আর প্রকাশ করবে না ফ্রান্স।
ম্যাক্রোঁ তার ভাষণে ‘অ্যাডভান্সড ডিটারেন্স’ বা উন্নত প্রতিরোধ ব্যবস্থার ধারণা তুলে ধরেন। এর আওতায় আটটি মিত্র দেশে ফ্রান্সের কৌশলগত বিমান বাহিনী মোতায়েন করা হবে। দেশগুলো হলো:
জার্মানি, ব্রিটেন, পোল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস।
বেলজিয়াম, গ্রিস, সুইডেন এবং ডেনমার্ক।
এই পরিকল্পনাটি ন্যাটোর বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
যদিও এই ভাষণটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগেই নির্ধারিত ছিল, তবে এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকিকে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি এবং ফ্রান্সে উগ্র-ডানপন্থী দলের উত্থানের আশঙ্কায় ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে চাইছেন ম্যাক্রোঁ।
ভাষণে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন:
“একাধিক হুমকির মুখে আমাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা ছাড়া বিকল্প নেই। স্বাধীন থাকতে হলে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি অন্যদের মনে সম্ভ্রম ও ত্রাস সৃষ্টি করতে হবে।”
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মিত্র দেশগুলোতে ফরাসি বিমান বাহিনীর এই বিস্তৃতি শত্রুপক্ষের সামরিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে। এর মাধ্যমে ইউরোপের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।