আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো যৌথ সামরিক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকারি সংস্থা ‘শহীদ ও প্রবীণ বিষয়ক ফাউন্ডেশন’-এর বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ ছাত্রীর মৃত্যু সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে। সেখানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী প্রাণ হারায়। নিহতদের অধিকাংশেরই বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। কোমলমতি শিশুদের ওপর এই হামলায় ইরানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আহত ৬ হাজার ছাড়িয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর জানিয়েছেন, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার ১৮৬ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ২ হাজার ৫৪ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
পাল্টা হামলার তথ্য শনিবার সকালে তেহরানসহ ইরানের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে একযোগে হামলা শুরু করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ এর আওতায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। তেহরানের দাবি, তাদের পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জন ইসরায়েলি এবং ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
গভীর উদ্বেগে আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শিশুদের প্রাণহানিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আরও রক্তপাত বন্ধে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
মোট নিহত: ১২৩০ জন।
বিশেষ ট্র্যাজেডি: মিনাব শহরে ১৭৫ জন স্কুলছাত্রীর মৃত্যু।
আহত: ৬১৮৬ জন।
পাল্টা হামলা: ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল অ্যাটাক।
সূত্র: এএফপি, সিনহুয়া ও ইরানা।