আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী। রোববার (৮ মার্চ) বেলা ১২টায় মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।
বক্তাদের হুঁশিয়ারি: বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো. রহমত উল্লাহর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় থাকতে পারে না। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় না আনলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংহতি ও অংশগ্রহণ: মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা কাজী শাহেদ (দেশ টিভি), সাবেক সভাপতি আবু কাওসার মাখন, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন শিমুল (কালবেলা), রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রাব্বানীসহ আরও অনেকে।
এছাড়াও রাজশাহী প্রেসক্লাব, বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে নুরে ইসলাম মিলন ও তার সহযোগীরা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবির জেরে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রধান অভিযুক্ত মিলন পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং সুরুজ আলী নামের এক সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে সভাপতি রেজাউল করিমকে কুপিয়ে জখম করে। বর্তমানে তিনি ১৩টি সেলাই নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশি তৎপরতা: এ ঘটনায় ইতিমধ্যে বোয়ালিয়া মডেল থানায় নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া একটি মাইক্রোবাস (কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮) জব্দ করেছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।