নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করতে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার নির্বাচিত এলাকার ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে কার্ড প্রদান করা হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকা) এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নারীর স্বীকৃতি: পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর নামেই এই কার্ড ইস্যু করা হবে।
আর্থিক সহায়তা: প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার মাসিক ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। ভবিষ্যতে নগদ টাকার বদলে সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
সদস্য সংখ্যা: প্রতিটি কার্ডের আওতায় একটি পরিবারের সর্বোচ্চ ৫ জন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
স্মার্ট কার্ড: উপকারভোগীদের একটি করে ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তাঁরা অনায়াসেই সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। মোট ৬৭,৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, যা যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭,৫৬৪টিতে দাঁড়িয়েছে। 'প্রক্সি মিনস টেস্ট' পদ্ধতির মাধ্যমে পরিবারের আয়, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা ও বাসস্থানের অবস্থা বিবেচনা করে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত: যদি কোনো নারী গৃহপ্রধান আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেয়ে থাকেন, তবে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর আগের সুবিধাটি বাতিল হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁদের নিজ নিজ ভাতা বা সরকারি সুবিধা নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে পারবেন।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাগুলো সরাসরি প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে।