(ডিমলা) নীলফামারী প্রতিনিধি: ‘দুর্যোগে প্রস্তুতি, রক্ষা পাবে প্রাণ ও সম্পদ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি ও আলোচনা সভা: সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়, যা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসক ইম্রানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল সাত্তার।
প্রধান অতিথির বক্তব্য: প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, "বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। দুর্যোগের সময় কীভাবে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয় এবং জীবন রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে বাস্তব জ্ঞান রাখতে হবে।"
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ: উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবীর
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না
উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা
জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন
উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান ও সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান বকুল।
এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অগ্নিনির্বাপণ মহড়া: আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক একটি বাস্তব মহড়া প্রদর্শন করা হয়। মহড়ায় আগুন নেভানোর প্রাথমিক কৌশল, আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার পদ্ধতিগুলো হাতে-কলমে দেখানো হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে এই মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।