মশিয়ার রহমান, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নে এক মানবিক চিকিৎসকের নাম এখন মানুষের মুখে মুখে। তিনি ডাক্তার মাহাবুবর রহমান। পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হলেও এলাকার গরিব, দুঃখী, অসহায় ও এতিম মানুষের কাছে তিনি এক ভরসার প্রতীক।
ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড দক্ষিণ সোনাখুলী (হাজীপাড়া) গ্রামের হাফেজ ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে মাহাবুবর রহমান। বর্তমানে তিনি চাপানীহাটে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
অসহায়ের সারথি: এলাকাবাসী জানায়, প্রতিদিন গ্রামের মানুষের খোঁজখবর রাখা মাহাবুবর রহমানের রুটিন কাজে পরিণত হয়েছে। কার ঘরে খাবার নেই, কে অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছে কিংবা কার মেয়ের বিয়ে আটকে আছে—এমন খবর পেলেই তিনি ছুটে যান। সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থাও করেন তিনি। এমনকি দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে সম্পন্ন করতে নিজে দ্বারে দ্বারে ঘুরে অর্থ সংগ্রহ ও তদারকি করেন।
শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সংস্কারক: অভাবের কারণে যেসব মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন এই চিকিৎসক। এছাড়া তিনি বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, নারী নির্যাতন ও মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও হাডুডুসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নিয়মিত আয়োজন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেন তিনি।
ধর্মীয় ও সামাজিক অবদান: নিজ এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার থেকে শুরু করে মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও ওয়াজ মাহফিলে নিয়মিত অনুদান দিয়ে আসছেন তিনি। বিশেষ করে রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে সেমাই, চিনি, আটা, শাড়ি-লুঙ্গি ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন।
ব্যক্তিগত দর্শন: এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ডাক্তার মাহাবুবর রহমান বলেন, "ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতাম। বাবার কাছ থেকে শিখেছি মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। আমি আমার পেশাগত আয় এবং পৈত্রিক সম্পত্তির সামান্য অংশ দিয়ে সংসার চালিয়ে বাকিটা মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার চেষ্টা করি। মানুষের ভালোবাসাই আমার জীবনের বড় পাওয়া।"
মানবিক কাজে কিছু মহলের সমালোচনা থাকলেও তা তোয়াক্কা না করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এলাকার সচেতন মহলের মতে, সমাজের বিত্তবানরা যদি মাহাবুবর রহমানের মতো এগিয়ে আসতেন, তবে প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যের দ্রুত পরিবর্তন ঘটত।