আমিরুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৩ মার্চ, ২০২৬
নালিতাবাড়ী (শেরপুর): শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের গহিন অরণ্যে বন্যহাতির অভয়ারণ্য এলাকায় অভিনব কৌশলে সিসি ব্লক তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য। পাহাড়ি ঝরণার বালু ও পাথর অবৈধভাবে ব্যবহার করে তৈরি করা এসব ব্লক নালিতাবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলায় দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বন ও প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ধসে পড়ছে শাল বনের টিলা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমশ্চুড়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ের ‘কোনাবাড়ী বড়খোল’ নামক স্থানে এই কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। স্থানটি ভারত সীমান্তঘেঁষা এবং বন্যহাতির অবাধ বিচরণক্ষেত্র হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত নেই বললেই চলে। এই নির্জনতার সুযোগ নিয়ে গত মাসের শুরু থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য উমর ফারুক ও নবী হোসেন রঞ্জনা ঝরণা থেকে বালু, নুড়ি ও সিঙ্গেল পাথর উত্তোলন করে শত শত সিসি ব্লক তৈরি করছেন।
কারখানাটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় বন বিভাগ আগে বিষয়টি টের না পেলেও সম্প্রতি নালিতাবাড়ীর সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জের বনবিট কর্মকর্তা কাউসার আহম্মেদ জানান, "ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসি ব্লক তৈরির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।"
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য উমর ফারুক দাবি করেন, তিনি নিজের পুকুরপাড় মেরামতের জন্য এসব ব্লক তৈরি করেছেন। তবে পুকুরপাড়ের জন্য এত বিপুল পরিমাণ ব্লক কেন এবং কেন সেগুলো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন সাংবাদিকদের জানান, "প্রাথমিকভাবে তারা দাবি করছে নিজেদের জায়গায় ব্লক তৈরি করছে। তবে এটি আইনসিদ্ধ কি না তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বর্তমানে স্থানীয় নদীগুলোর বালুমহাল বন্ধ থাকায় বালু উত্তোলন ও পরিবহন নিষিদ্ধ। এই সুযোগে পাহাড়ের খনিজ সম্পদ অবৈধভাবে পাচারের বিকল্প পথ হিসেবে এই সিসি ব্লক কারখানাকে বেছে নিয়েছেন অসাধু চক্রটি। রঞ্জনা ঝরণার পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে পাহাড়ের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত এই অবৈধ কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
"দুর্গম এলাকায় আমাদের যাতায়াত কম থাকায় বিষয়টি আগে নজরে আসেনি। বর্তমানে সব কার্যক্রম বন্ধ করে সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।"
— কাউসার আহম্মেদ, বনবিট কর্মকর্তা, মধুটিলা রেঞ্জ।