মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার: নোয়াখালীর চাটখিলে চরম অমানবিকতা ও শত্রুতার নিদর্শন দেখালো অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। রাতের আঁধারে এক ব্যক্তির মুকুল আসা ২০টি আম গাছসহ সুপারি, লিচু, বরই ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ কেটে সাবাড় করে দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার (১৫ মার্চ) সকালে চাটখিল পৌরসভার ফতেপুর গ্রামে এই ঘটনা দৃশ্যমান হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিক সাইফুল ইসলাম চাটখিল পৌরসভার ইলেকট্রিশিয়ান (সেবক) হিসেবে কর্মরত। তিনি সুন্দরপুর গ্রামের বলি বাড়ির বাসিন্দা। তিনি জানান, বহু কষ্টে ফতেপুর গ্রামে তার জায়গায় এই বাগানটি গড়ে তুলেছিলেন। অনেকগুলো আম গাছে এবার পর্যাপ্ত মুকুল এসেছিল, অন্য ফলদ গাছগুলোতেও ফল ধরতে শুরু করেছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে শত্রুতা করে কে বা কারা এই জীবন্ত গাছগুলো কেটে ধ্বংস করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মিজান জানান, "আমি প্রতিদিনের মতো সকালে এলাকায় গরুর দুধ দেওয়ার জন্য বের হই। হঠাৎ বাগানের দিকে তাকাতেই দেখি অসংখ্য গাছ কাটা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমি সাইফুল ভাইকে জানাই। তিনি এসে তার শ্রমের এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।"
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাইফুল ইসলাম বলেন, "গাছগুলোর সাথে কার কী শত্রুতা থাকতে পারে? যারা এই মুকুল আসা ফলন্ত গাছগুলো কাটতে পেরেছে, তারা মানুষ হতে পারে না। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"
চাটখিলের সচেতন মহল মনে করছেন, গাছ কেটে সাবাড় করার এই সংস্কৃতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত এই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আরও বাড়তে পারে।