আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৬
রাজশাহী: রাজশাহীর বাঘায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে উপজেলার পাম্পগুলোতে ঝুলছে তালা, অন্যদিকে খোলা বাজারে কয়েকগুণ চড়া দামে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদরের একমাত্র পেট্রোল পাম্পটি গত দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত তেল। দুপুরে তেল আসবে—এমন আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে খালি হাতে ফিরছেন গ্রাহকরা।
অথচ পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এটি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাঘার মনিগ্রাম, তেঁতুলিয়া ও আড়ানীতে অন্তত পাঁচটি জ্বালানি ডিপো রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ডিপোতে গভীর রাতে তেলের লরি আসে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই তেল গোপনে সরিয়ে নিয়ে বেশি দামে খোলা বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে দিনের বেলায় সাধারণ মানুষ পাম্পে গিয়ে তেল পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক মোখলেসুর রহমান বলেন, “পাম্পে তেল নেই, কিন্তু বাইরে বেশি দামে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে—এটি স্পষ্ট কারসাজি।”
চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষক হাবিব বলেন, “এই সময়ে ঠিকমতো সেচ দিতে না পারলে আমাদের সারা বছরের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।” জ্বালানি সংকটে পরিবহন খাতের স্থবিরতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে চরমে নিয়ে গেছে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য: > এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাঘা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
বিশ্লেষণ: বাঘার এই জ্বালানি সংকট মূলত বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবেরই প্রতিফলন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা না করলে এই অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য থামানো সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।