নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার ঘোষক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমসহ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নোয়াখালী জেলা ও চাটখিল উপজেলা ওলামা দলের নেতৃবৃন্দ।
এক যৌথ বিবৃতিতে চাটখিল উপজেলা জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক প্রার্থী আলহাজ্ব মাওঃ শরাফত উল্যাহ এবং সদস্য সচিব প্রার্থী মাওঃ কাজী শাহজাহান মাসুদ সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
নেতৃদ্বয় তাদের বার্তায় বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের মানুষ ঔপনিবেশিক স্বৈরশাসনের গ্লানি থেকে মুক্তির জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তারা উল্লেখ করেন, ২৫শে মার্চ কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকহানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার খবর পেয়েই তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ২৬শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা বিশ্ববাসীর সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নেতৃবৃন্দ একেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার 'প্রকৃত ইতিহাস' বলে অভিহিত করেন।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন:
"২৬শে মার্চ কেবল একটি রাষ্ট্রের জন্মলগ্নের সূচনাই নয়, বরং এটি জাতির আত্মপরিচয় ও অস্তিত্ব রক্ষার চূড়ান্ত সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ। একদিকে যেমন স্বাধীনতার ঘোষণা উচ্চারিত হয়েছিল, অন্যদিকে শুরু হয়েছিল ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা—যা বাঙালির চেতনায় চিরকাল গৌরব ও বেদনার প্রতীক হয়ে থাকবে।"
তারা স্মরণ করেন যে, মেজর জিয়ার সেই ঘোষণা ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের (EPR) ওয়্যারলেসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দ্রুত দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড লোশাকের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাঙালির সংগ্রামের বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল।
আজকের এই মহান দিনে চাটখিলবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে মাওঃ শরাফত উল্যাহ ও মাওঃ কাজী শাহজাহান মাসুদ বলেন:
দলমত নির্বিশেষে ঐক্য: উপজেলার উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য প্রয়োজন।
সামাজিক অবক্ষয় রোধ: চাটখিলকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক মুক্ত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
গণতন্ত্র রক্ষা: লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুরক্ষা ও গণতন্ত্রের পতাকাকে সমুন্নত রাখার শপথ নিতে হবে।
পরিশেষে, তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী সকল বীর সন্তানদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাদের জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করেন।