হাবিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি। | প্রকাশের সময়: ৩০ মার্চ, ২০২৬
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ দখল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান ঘোষণা করে তিনি বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ অনুযায়ী, ২০২২ সালে নির্বাচনের পর ওসমান গনিকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১, পারভীন আক্তারকে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ এবং আমির হামজাকে প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ নির্বাচিত করা হয়, যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক অনুমোদিত। কিন্তু ৫ আগস্টের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান দাবি করে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেন। তিনি 'মব' সৃষ্টির মাধ্যমে বৈধ প্যানেল চেয়ারম্যানদের কোণঠাসা করে জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন।
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ: অভিযোগ রয়েছে, মিজানুর রহমান সচিবের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সাদা রেজুলেশন খাতায় সই নিয়ে নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেন, যা ইউএনও গ্রহণ করেননি। তবুও তিনি ভুয়া সিল বানিয়ে ভিজিডি, ভিজিএফ বিতরণসহ কাবিটা, এলজিএসপি ও এডিপি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম করছেন। তার ছোট ভাই মো. শামীমের বিরুদ্ধে মাছঘাট ও বালুমহলে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি ও জনপ্রতিনিধি: স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান তাকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করছেন। বড়খেরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নুরনবী নোমান বলেন, "এমপি সাহেবের কঠোর নির্দেশনা অমান্য করে মিজান মেম্বার বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। হাটবাজারে এ নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে।"
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান জানান, পরিষদের অধিকাংশ সদস্যের রেজুলেশনে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম তুষার জানান, ইউএনও অফিস থেকে তাকে কোনো লিখিত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, "বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় ওমর ফারুক, আঃ রহমান ও মেহরাজ হোসেন এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।