আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দুবাই উপকূলে কুয়েতের একটি বিশাল তেল ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে সংঘটিত এই হামলায় জাতিসংঘের ৩ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। হামলার পেছনে ইরান জড়িত বলে দাবি করা হচ্ছে।
হামলার শিকার জাহাজটির নাম ‘আল-সালমি’। সোমবার ভোরে দুবাই উপকূলের কাছে অবস্থানকালে ড্রোন হামলার শিকার হয় বিশালাকার এই ট্যাংকারটি। হামলার পরপরই জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং সমুদ্রে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে দুবাইয়ের উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান:
নিহত: ৩ জন (জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী)।
তেলের পরিমাণ: জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।
বাজারমূল্য: পরিবহনকৃত তেলের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জাহাজের আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। আল-জাজিরার ব্রেকিং নিউজ অনুযায়ী, এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের রেশ ধরেই বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলা চালানো হয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক নিরাপত্তার ওপর এটি সর্বশেষ বড় ধরনের আঘাত, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান