
আশরাফুল ইসলাম, গাইবান্ধা | ৪ এপ্রিল, ২০২৬
পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভায় জনসাধারণের চলাচলের দীর্ঘদিনের রাস্তা বন্ধ করে এবং পৌর আইন অমান্য করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এনজিও 'প্রাশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র' পলাশবাড়ী শাখার বিরুদ্ধে। পৌরসভার গৃধারীপুর গ্রামে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে যাতায়াতের একমাত্র পথ (জমির আইল) বন্ধ করে এই নির্মাণকাজ শুরু করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও জমির মালিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সমাধান চেয়ে পৌর প্রশাসক ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে গৃধারীপুর গ্রামে প্রশিকা অফিস সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ধানি জমিতে যাওয়ার একমাত্র পায়ে চলা পথের প্রবেশমুখে রাস্তা কেটে বেস ঢালাইয়ের কাজ চলছে। রড ও নির্মাণ সামগ্রী স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পূর্বের নির্ধারিত সীমানা পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া উপেক্ষা করে নতুন করে এই দেয়াল তোলা হচ্ছে।
চলাচলের পথ বন্ধ হওয়ায় বিশেষ করে স্থানীয় বেশ কিছু সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার বিপাকে পড়েছেন। ভুক্তভোগী হরি বাবু জানান, "এনজিওর ম্যানেজার প্রভাব খাটিয়ে আমাদের চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। আমরা এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছি।"
অন্যতম ভুক্তভোগী ভোলা বাবু আক্ষেপ করে বলেন, "যারা গায়ের জোরে রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল দেয়, তারা নিশ্চয়ই অনেক শক্তিশালী। আমাদের বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নেই, শুধু মুখেই বলতে পারি।"
জমির মালিক এসএম জাহাঙ্গীর কবির অভিযোগ করেন, "জমি বিক্রির সময় মৌখিক অঙ্গীকার ছিল যে যাতায়াতের রাস্তা রেখে প্রাচীর দেওয়া হবে। কিন্তু এখন সব নিয়ম ভেঙে তারা আমাদের জমিতে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। বাধা দিতে গেলে আমাদের ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে।"
অভিযোগের বিষয়ে প্রশিকা এনজিওর ম্যানেজার সিদ্দিকুল ইসলাম মুধা সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা প্রশিকার ক্রয়কৃত জায়গায় পরিমাপ করেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছি।" তবে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
পলাশবাড়ী পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার জানান, "অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করে যাতায়াতের পথ সুগম করতে হবে। অন্যথায় অনেক পরিবার তাদের বসতবাড়ি ও কৃষি জমিতে যাতায়াত করতে পারবে না। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে তারা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জমির বিবরণ: মৌজা- গৃধারীপুর, জেএল নং-৭০, খতিয়ান নং-৫৮, দাগ নং-৫৮; মোট জমি ৯০ শতক।