
হাবিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | ৪ এপ্রিল, ২০২৬
রামগতি, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমি থেকে মাটি বিক্রির মহোৎসব চলছে। একটি প্রভাবশালী মহল একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এসব মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের নাম ভাঙিয়ে রাতের আঁধারে চলছে এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ।
সরেজমিনে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের আযাদ মার্কেট সংলগ্ন আলমগীর সমাজ এলাকায় দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের সদস্য সাবেক মেম্বার আজাদ উদ্দীন, ইসমাইল ব্যাপারী, হেলাল ব্যাপারি, আলাউদ্দীন ও আলমগীর মেস্তুরী দীর্ঘ তিন মাস ধরে এই লুটপাটে জড়িত।
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ২২৫ শতাংশ উর্বর কৃষি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ায় সেখানে এখন বিশাল গর্ত বা পুকুর তৈরি হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পার্শ্ববর্তী অন্তত ৫০টি বসতবাড়ি ভুলুয়া নদীর ভাঙনের মুখে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
চক্রের অন্যতম সদস্য হেলাল ব্যাপারী দম্ভোক্তি করে বলেন, "আমরা তো প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করেই মাটি কাটছি। ৩ মাস ধরে কাটছি, হঠাৎ আপনাদের কে খবর দিলো?" এমনকি স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আলমগীরকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন জানান, "পরিষদের পক্ষ থেকে বাধা দিলেও তারা কাউকে মানছে না। গত সোমবার রাতেও ২০টি ভেকু ও ২৫টি ট্রাক্টর দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে।"
তহসিলদার মোবারক হোসেন জানান, সরেজমিনে গিয়ে বাধা দিলেও চক্রটি তা তোয়াক্কা করছে না। অন্যদিকে, রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান বিষয়টি ইউএনও-কে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
"অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" — নিলুফা ইয়াসমিন নিপা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), রামগতি।
মাটি বিক্রির এই টাকা ভাগাভাগি নিয়ে চরাঞ্চলে একাধিক গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ধারণা, যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে, যা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটাবে। সরকারের এই মূল্যবান সম্পদ রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।