ফেরদৌস আলী, শেরপুর প্রতিনিধি | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপ-নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেছেন, "শ্রীবরদীকে একটি মডেল উপজেলা ও মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই।" আজ রোববার বিকেলে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রুবেল বলেন, "নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। এই সময় পাড়া-মহল্লায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে যেন কেউ টাকার বিনিময়ে ভোট কিনতে না পারে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে নির্বাচনকালীন লেনদেন নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না; তবে কেউ অবৈধভাবে ভোট কেনার চেষ্টা করলে তাকে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করুন।"
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "তারা ইনসাফ ও শরীয়াহ আইনের কথা বললেও নির্বাচনের আগে-পরে তাদের আচরণে উস্কানি ও উচ্ছৃঙ্খলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা কেবল ভোটের স্বার্থে এসব কথা বলেছিল।" পরিশেষে, সকল ভেদাভেদ ভুলে রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় রাখার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।
শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুর রহিম দুলালের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল মামুন দুলালের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন:
আবু রায়হান রুপন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা বিএনপি।
ফজলুল হক চৌধুরী অকুল, আহ্বায়ক, শ্রীবরদী পৌর বিএনপি।
এ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ, সাবেক সভাপতি, উপজেলা বিএনপি।
ফিরোজ খান নুন, চেয়ারম্যান, কুড়িকাহনিয়া ইউপি।
সম্ভু সাহা, সভাপতি, পূজা উদযাপন কমিটি।
জনসভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনের জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। নতুন তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন: ১. মাহমুদুল হক রুবেল (বিএনপি - ধানের শীষ) ২. মাসুদুর রহমান মাসুদ (জামায়াতে ইসলামী - দাঁড়িপাল্লা) ৩. মিজানুর রহমান (বাসদ মার্কসবাদী - কাঁচি)