শাহিন হাওলাদার, বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল 'উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স' এখন নানা সমস্যা ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত। হাসপাতালের একশ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারীর খামখেয়ালিপনা এবং দায়িত্বহীনতায় ভেঙে পড়েছে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চলায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে সেবা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক চিকিৎসক ও স্টাফকে কর্মস্থলে পাওয়া যায় না। সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে তারা নিজেদের ‘ইচ্ছামতো’ কর্মস্থলে আসছেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা বয়স্ক ও শিশুদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে একগুচ্ছ অভিযোগ পাওয়া গেছে:
দুর্ব্যবহার: সাধারণ রোগীরা অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের স্টাফদের কাছে কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে তারা চরম দুর্ব্যবহার ও অসহযোগিতা করেন।
ওষুধ সংকট: সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও রোগীদের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্টকে ওষুধ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের তা দেওয়া হয় না।
পরিবেশের বিপর্যয়: হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং বিশেষ করে শৌচাগারগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দুর্গন্ধে ওয়ার্ডগুলোতে অবস্থান করা রোগীদের জন্য দায় হয়ে পড়েছে।
উপজেলা পর্যায়ের এই হাসপাতালটির ওপর কয়েক লাখ মানুষের নির্ভরতা। অথচ দায়িত্বশীলদের চরম অবহেলার কারণে দিন দিন সাধারণ মানুষ সরকারি এই সেবার ওপর আস্থা হারাচ্ছে। সামর্থ্যবানরা বেসরকারি ক্লিনিকে গেলেও বিপাকে পড়ছেন হতদরিদ্র মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি: হাসপাতালের এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। যারা নিয়মিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছেন এবং রোগীদের হয়রানি করছেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অন্যথায়, বাকেরগঞ্জের এই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।