আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর বাঘায় জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। উপজেলায় মাত্র একটি পেট্রোল পাম্প থাকায় ভোগান্তি এখন চরমে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না প্রয়োজনীয় জ্বালানি। এর ওপর যুক্ত হয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য ও কিছু অসাধু চালকের অনিয়ম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘায় একটিমাত্র পেট্রোল পাম্প হওয়ায় তেল আসার খবর পেলেই শত শত মানুষ ভিড় জমান। অনেককে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২০০ টাকার পেট্রোল পাচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, কিছু মোটরসাইকেল চালক একবার তেল নেওয়ার পর পুনরায় লাইনের পেছনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। এভাবে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন তারা। সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, পাম্প কর্তৃপক্ষ ঝোলানো নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে পালন করলে এই অনিয়ম রোধ করা সম্ভব।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ পাম্পে তেল না পেলেও খুচরা বাজারে চড়া দামে পেট্রোল মিলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক শ্রেণির সিন্ডিকেট পাম্প থেকে তেল সরিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছে। সম্প্রতি এমন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার। এ সময় অবৈধভাবে তেল বিক্রির দায়ে দুই খুচরা বিক্রেতাকে জরিমানাও করা হয়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, পেট্রোল ক্রয়ের ক্ষেত্রে যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র ও হেলমেট থাকা বাধ্যতামূলক। এ সংক্রান্ত লিফলেট পাম্পে টানানো থাকলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বৈধ চালকরা। সুশীল সমাজের মতে, এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে তেলের অবৈধ সিন্ডিকেট ও অপ্রয়োজনীয় ভিড় অনেকাংশে কমে আসবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার জানান:
"বাঘা পেট্রোল পাম্পের শৃঙ্খলা রক্ষায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিহা সুলতানা ডলিকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি এখন থেকে আর কোনো অনিয়ম হবে না। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাম্পে ঝোলানো নির্দেশনাগুলোও কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।"
ভোগান্তি নিরসনে এবং তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন বাঘার সাধারণ মানুষ।