মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। আগামী ৯ এপ্রিলের ভোটকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। মাঠের চিত্র বলছে, লড়াই হবে সমানে সমান; জয়ের ব্যাপারে কেউ কাউকে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ।
এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিনজন প্রার্থী: ১. মাহমুদুল হক রুবেল (বিএনপি - ধানের শীষ) ২. আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী - দাঁড়িপাল্লা) ৩. মিজানুর রহমান (বাসদ-মার্ক্সবাদী - কাঁচি)
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মাঠের ভোটারদের মতে, লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দিনভর গণসংযোগ, উঠান বৈঠক আর মধ্যরাত পর্যন্ত মাইকিং ও স্লোগানে মুখর হয়ে আছে পুরো নির্বাচনী এলাকা।
বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে হারানো গৌরব ফিরে পেতে মরিয়া সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল। তার প্রচারণায় যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা—পারিবারিক সক্রিয়তা। রুবেলের স্ত্রী ফরিদা হক দিপা ও মেয়ে রুবাইদা হক রিমঝিম নারী ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ছেলে রাফিদুল হক তরুণ ভোটারদের কাছে টানতে নিরলস কাজ করছেন।
শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি প্রয়াত জনপ্রিয় জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই। ভাইয়ের জনপ্রিয়তা এবং দলের সুসংগঠিত কর্মী বাহিনীকে পুঁজি করে তিনি নিজের অবস্থান অত্যন্ত মজবুত করেছেন। তার সমর্থকদের দাবি, এবার তারা ‘নতুন মুখ’ দেখতে চান।
সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে দুই ধরনের মেরুকরণ:
উন্নয়ন পন্থী: ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, কেন্দ্রে বিএনপি সরকার থাকায় এই আসনে ধানের শীষ জয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। অন্য কাউকে ভোট দিলে এলাকা উন্নয়নবঞ্চিত হতে পারে—এমন ভাবনা থেকে তারা ধানের শীষকেই বেছে নিতে চান।
পরিবর্তন পন্থী: অপর অংশটির মতে, দীর্ঘ সময় ধরে আসনটি একটি নির্দিষ্ট পরিবারের কবজায় রয়েছে। ভোটারদের দাবি—"তার বাবা এমপি ছিলেন, চাচা এমপি ছিলেন, রুবেল নিজেও তিনবার এমপি হয়েছেন। এবার আমরা পরিবর্তন চাই।"
মাহমুদুল হক রুবেল (বিএনপি): "আমি সবসময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। এলাকার প্রতিটি সমস্যা আমার নখদর্পণে। ইনশাআল্লাহ, ভোটাররা ধানের শীষেই রায় দেবেন।"
আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ (জামায়াত): "মানুষ এখন পরিবর্তন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চায়। ইনশাআল্লাহ, ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ আমাকেই বিজয়ী করবে।"
মিজানুর রহমান (বাসদ-মার্ক্সবাদী): "মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমার লড়াই। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে বলে আমার বিশ্বাস।"
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে এই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল।
ভোটের তারিখ: ৯ এপ্রিল।
মোট ভোটার: ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন।
ভোটকেন্দ্র: ১২৮টি।
অঞ্চল: ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা।
উত্তাপ ছড়ানো এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কে হাসবেন শেষ হাসি, তা দেখতে এখন অধীর অপেক্ষায় শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীবাসী।