মাহফুজুর রহমান সাইমন: পেটের ভেতর কলিজায় (লিভার) পাথর, অসহ্য যন্ত্রণা। দুই বছর ধরে এই মরণব্যাধির সঙ্গে লড়াই করছেন জামালপুরের ইসলামপুরের হতদরিদ্র সুজন মিয়া (৩৮)। উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা দ্রুত বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, প্রয়োজন ১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু অর্থের অভাবে এখন চিকিৎসা তো দূরের কথা, দুবেলা অন্নসংস্থানই কঠিন হয়ে পড়েছে তার পরিবারের কাছে।
সরেজমিনে ইসলামপুর উপজেলার ১২ নং চরগোয়ালীনি ইউনিয়নের হরিণধরা পুরানপাড়া গ্রামে সুজন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। জরাজীর্ণ টিনশেডের একটি ছোট রুমের সামনে বসে আছেন সুজন। শরীর অনেকটা শুকিয়ে কঙ্কালসার হয়ে গেছে। ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না। কথা বলতে গেলেই ব্যথায় বারবার চিৎকার করে উঠছিলেন।
হরিণধরা পুরানপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে সুজন মিয়া আগে কৃষিকাজ বা দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। তার স্ত্রী খালেদা, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছিল অভাবের সংসার। দুই বছর আগে পেটে সমস্যা দেখা দিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে কলিজায় পাথর।
সুজন মিয়া জানান, রোগ ধরা পড়ার পর একবার অপারেশন করা হয়েছিল। কিছু দিন ভালো থাকলেও আবারও সমস্যা দেখা দেয়। অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে এলাকার লোকজন চাঁদা তুলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন।
ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সুজনের সব রিপোর্ট দেখে জানান, তার কলিজায় যে ধরনের পাথর হয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। তাকে দ্রুত বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। এই চিকিৎসার জন্য অন্তত ১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের এই কথা শুনে অসহায় সুজন মিয়ার পরিবারের ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। এতো টাকা তারা কোথায় পাবেন? টাকার অভাবে দিন দিন সুজনের অবস্থা খারাপ হচ্ছে।
সুজন মিয়ার স্ত্রী খালেদা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "স্বামীর অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এখন ঠিকমতো কথা বলতেও পারছেন না। যন্ত্রণায় ছটফট করেন। চিকিৎসকরা বলেছেন বিদেশে নিলে উনি সুস্থ হতে পারেন। কিন্তু আমাদের তো এতো টাকা নেই। সরকার বা সমাজের বিত্তবানরা একটু দয়া করলে হয়তো আমার স্বামীকে বাঁচাতে পারতাম। আমার এতিম বাচ্চাগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে দয়া করে কেউ এগিয়ে আসুন।"
ব্যথায় কাতর সুজন মিয়া ভাঙা গলায় বলেন, "আমি বাঁচতে চাই। আমার স্ত্রী ও এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে আগের মতো জীবনযাপন করতে চাই। সরকার বা বিত্তবানরা সাহায্য করলে হয়তো আমি সুস্থ হয়ে ফিরতে পারব।"
সুজন মিয়াকে বাঁচাতে এবং তার পরিবারকে সহায়তা করতে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। আপনার সামান্য সাহায্য হয়তো একটি প্রাণ বাঁচাতে পারে এবং একটি পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।