শরিফা বেগম শিউলী, স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর): রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ১নং কল্যাণী ইউনিয়নের বড়দরগা বাজারে পাওনা টাকা আদায়ের শালিসি বৈঠকে এক গণমাধ্যমকর্মী ও তার পরিবারের ওপর পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন এলাকার বড়দরগা আইডিয়াল স্কুল মাঠে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী শুকরানা জানান, বড়দরগা বাজারে তাদের 'আর এম ট্রেডার্স' নামের একটি হার্ডওয়্যারের দোকান রয়েছে। ওই দোকান থেকে নজরুল মিস্ত্রি নামের এক ব্যক্তি প্রায় দেড় বছর আগে ৪৯,০০৪ টাকার মালামাল বাকিতে নেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও টাকা না দেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার সকালে নজরুল দোকানে আসলে শুকরানার বাবা পাওনা টাকা চান। এসময় নজরুল উত্তেজিত হয়ে টাকা দিতে অস্বীকার করলে শুকরানা তার মোটরসাইকেলের চাবি রেখে দেন এবং টাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য সামছুল হক লিপুর হেফাজতে চাবিটি দেওয়া হয়।
পাওনা টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে ওইদিন রাত সাড়ে ১০টায় কল্যাণী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার শফিকুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার সামছুল হক লিপুসহ ৬ জন মেম্বার ও ২ জন প্যানেল চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আইডিয়াল স্কুল মাঠে বৈঠক বসে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নজরুল মিস্ত্রি ও জাহিদুল ব্যাপারির হুকুমে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা ৬০-৭০ জন সন্ত্রাসী হঠাৎ শুকরানা ও তার পরিবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলাকারীরা চেয়ার, লাঠি ও কাঁচি দিয়ে শুকরানা, তার বাবা ও ভাইদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। এক পর্যায়ে নজরুল মিস্ত্রি হত্যার উদ্দেশ্যে শুকরানার মাথায় কাঁচি দিয়ে আঘাত করলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে তার মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে। পাঁচ দিন চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার সামছুল হক লিপু বলেন, "আমরা ৬ জন প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। পাওনা টাকা নিয়ে আলোচনার শেষ পর্যায়ে নজরুল মিস্ত্রির লোকজন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে শুকরানাদের ওপর হামলা শুরু করে।"
৪নং ওয়ার্ড মেম্বার হুমায়ুন আহমেদ ও প্যানেল চেয়ারম্যান নেছার মিয়া জানান, জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এভাবে আক্রমণ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। জাহিদুল ব্যাপারির হুকুমে নজরুল মিস্ত্রিরা এই হামলা চালিয়েছে যা পরিকল্পিত।
অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বাকিতে মালামাল নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, "টাকা দিতে না পারায় তারা আমার বাইক রেখে দিয়েছিল। রাতে মেম্বাররা বৈঠক ডাকলে সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমাদের লোকজন মারামারি শুরু করে, এতে শুকরানা আহত হয়েছে।"
এ বিষয়ে মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাইদুল ইসলাম জানান, "আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"