মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে শার্শা উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে পছন্দের ব্যক্তিদের কাজ পাইয়ে দেওয়া।
জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ভুয়া ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়ে অর্থ উত্তোলন।
অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পন্ন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ।
একই ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্পের কাজ প্রদান।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামানের সঙ্গে যোগসাজশ করে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ।
দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু গণমাধ্যমকে বলেন, "উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন আমাকে ফোন করে তার অনুসারীদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। আমি আইনবহির্ভূত এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় তিনি আমাকে ১০ দিনের মধ্যে দেখে নেওয়ার ও এই উপজেলায় চাকরি করতে না দেওয়ার হুমকি দেন। এর পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।"
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক গঠিত কমিটির। তার কাজ কেবল তদারকি করা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বিশ্লেষকদের অভিমত: স্থানীয় সরকার পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। শার্শার এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।