আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৮ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে আবারও তোপের মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সালভাদরীয় অভিবাসী কিলমার আব্রেগো গার্সিয়াকে তার পছন্দের দেশ কোস্টা রিকার পরিবর্তে আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ায় বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান জানিয়েছে মার্কিন সরকার। সমালোচকরা বিষয়টিকে প্রশাসনের "প্রতিশোধমূলক আচরণ" হিসেবে দেখছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চ মাসে, যখন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই আব্রেগো গার্সিয়াকে ভুলবশত তার নিজ দেশ এল সালভাদরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অথচ ২০১৯ সালের একটি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে সেখানে পাঠানো নিষিদ্ধ ছিল, কারণ সেখানে তার ওপর গ্যাং সহিংসতার ঝুঁকি ছিল। তৎকালীন সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন একে একটি "প্রশাসনিক ভুল" বলে অভিহিত করেছিল।
ভুলবশত বহিষ্কারের পর গার্সিয়াকে এল সালভাদরের কারাগারে বন্দি হতে হয়। পরবর্তীতে মার্কিন ফেডারেল বিচারক পলা জিনিস এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০২৫ সালের জুনে তাকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে ফেরার পরপরই তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের ফৌজদারি অভিযোগ আনে প্রশাসন, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।
মঙ্গলবার ফেডারেল আদালতে শুনানির সময় ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা বিচারক পলা জিনিসকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তারা গার্সিয়াকে লাইবেরিয়াতেই পাঠাতে চান। অন্যদিকে, গার্সিয়া অনুরোধ করেছেন তাকে যেন কোস্টা রিকা পাঠানো হয়, এবং কোস্টা রিকা সরকারও তাকে গ্রহণে সম্মতি দিয়েছে।
বিচারক জিনিস প্রশ্ন তোলেন যে, কোস্টা রিকা যেখানে প্রতি সপ্তাহে ২৫ জন অভিবাসী নিতে চুক্তিবদ্ধ, সেখানে কেন তাকে জোর করে আফ্রিকায় পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর জবাবে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা আর্নেস্টো মলিনা জানান, গার্সিয়া চাইলে নিজেই কোস্টা রিকা চলে যেতে পারেন। কিন্তু বিচারক একে "কল্পকাহিনী" বলে উড়িয়ে দেন, কারণ গার্সিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলায় তিনি বর্তমানে আইনত দেশ ছাড়তে পারবেন না।
মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার অভিযানের বৈধতা নিয়ে গার্সিয়ার মামলাটি বড় প্রশ্ন তুলেছিল। তাই এখন তাকে দূরবর্তী দেশ লাইবেরিয়ায় পাঠিয়ে প্রশাসন প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইছে।
আগামী ২৮ এপ্রিল এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
তথ্যসূত্র:
দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)
আল জাজিরা
আদালত নথিপত্র (ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল ২০২৬)